Description
আমাদের রাজ্যটা দিন দিন কলোনি পাড়ার শেতলাপুজো মার্কা ভিখিরি ভখিরি হয়ে যাচ্ছে না?
-চকচকে হোটেল হচ্ছে। কিন্তু ভেতর ফাঁকা। অনেকটা ঝুলখাওয়া ওয়োরুম টাইপ হয়ে যাচ্ছে….
-খাওয়া-দাওয়া, রাখি-ভাইফোঁটা-ইতপুজো এসব নিয়েই মেতে আমরা ভালো আছি। পরিবারের পলেটিক্স, রিগ্রেসিভ সিরিয়াল, বিয়ে-বাচ্চাকাচ্চা এসবেই দিন চলে যাবে…রাজ্য ফাজ্য নিয়ে ভাবার সময় কোথায়।
-রাস্তায় আর কোনও সাধারণ স্বাভাবিক পড়ালেখাজানা চেহারার লোক চট করে চোখে পড়ে না, দেখেছো? মানে, আজ থেকে পনেরো বছর আগেও যারা বাংলা মাধ্যম স্কুলের শিক্ষক ছিলেন, কাঁধে ঝোলা নিয়ে হাঁটতেন, ছাত্রদের আলাদা করে ডেকে উপদেশ দিতেন, ছোট কাগজে লিখতেন, অল্পে খুশি থাকতেন..
-সবাই এখন লুম্পেন। অবশ্য, চকচকে লুম্পেন। মানে, ভদ্র-ধোপদুরস্ত কপটেরেট। সাংবাদিকতা বা লেখালেখির বদলে ম্যানেজমেন্টকেই বেটার কেরিয়ার অপশান ভাবে..
-সমাজটা কেমন দিন দিন অন্ধকার ঘর হয়ে উঠছে না? যে ঘরে জানলা নেই একটাও?
-এরজন্যে কারা দায়ী বলে তোমার মনে হয়?
-নিশ্চিত এ প্রজন্মের সমস্ত বুদ্ধিজীবীরা। যাদের দেখে আমরা বিশ্বাস করেছিলাম, বড় হয়েছিলাম। তারা দায়িত্ব নিয়ে রাজ্যটাকে ভাগাড়ে পাঠালো..
-এত স্ক্যাম সবার.. কোটি কোটি টাকা, দেখতে দেখতে একটা কালেক্টিভ ডিপ্রেশানের দিকে চলে যাচ্ছি কি আমরা সবাই?
-যাচ্ছিই তো। সত্যিই। পরের প্রজন্মগুলো জাস্ট অন্ধকারে বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মাবে। লটকে লট প্রতিবন্ধী। যাদের কোনও ভিশান থাকবেনা, ইডিওলজি থাকবে না। থাকবে বলতে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ১৫ হাজারের চাকরি আর বিয়েবৌভাতজন্মদিন..
-তাহলে উপায়?
-হয়তো একটা খোলা মানুষদের, অন্য রকম মানুষদের মঞ্চ আজ সবচেয়ে জরুরি। সেটা হয়তো ৩য় ফ্রন্ট। সেখানে আমাদের জড়ো হওয়াটা দরকার। এ ছাড়া উপায় দেখছিনা। -বলছ?
-বলছি।।
সুভদ্র লুম্পেনদের জন্য
লেখক: দেবর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রচ্ছদ: হিরণ মিত্র






Reviews
There are no reviews yet.