Description
‘বঙ্গসাহিত্যে উপন্যাসের ধারা’ গ্রন্থে শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় সূচনায় লিখেছেন… ‘উপন্যাসের অনুরূপ কোনো বস্তু আমাদের পুরাতন সাহিত্যে খুঁজিয়া পাওয়া যায় না। শুধু আমাদের দেশ বলিয়া নহে, পৃথিবীর কোনো দেশেরই পুরাতন সাহিত্যে উপন্যাসের দর্শন মেলে না। উপন্যাসের প্রধান বিশেষত্বই এই যে, ইহা সম্পূর্ণ আধুনিক সামগ্রী। পুরাতন যুগের আকাশ-বাতাসের মধ্যে ইহার জন্ম সম্ভব পর নহে।’ আজ কোভিড-১৯ উত্তর পৃথিবীতে তাহলে যখন পুরনো সমস্ত দর্শনই খোল-নোলচে বদলে এক অন্যতর জন্ম নিচ্ছে তখন বলা ভালো উপন্যাসও তার পুরাতন সংজ্ঞা বদলে এক নতুন রূপে আবির্ভাব হতে চাইবে যেখানে পুরাতন যুগের আকাশ বাতাস কে আমরা নতুন রূপে দেখতে পাবো। অভি চক্রবর্তীর এই উপন্যাসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট হল এটি নাট্যোপন্যাস। কিন্তু যেহেতু টেক-অফের আগে রানওয়ের একটা বিস্তার থাকে যেমন উপন্যাসের জন্মের আগেও প্রাচীন সাহিত্যে তার সংকেত ও ইঙ্গিত খুঁজে পাওয়া যায় তেমনি আজকের এই নতুনতর উপন্যাসও তার আগের যুগের উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে। সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের ন্যারেটিভ-হীন উপন্যাস স্বর্গের নির্জন উপকুলে শুধু মাত্র পিতা-পুত্রীর ডায়ালগেই সম্পূর্ণ ধরা আছে। তবে অভি সেই উপন্যাসে সন্দীপনের থেকে অনেকটাই সরে এসেছেন, এই উপন্যাসে শুধু মাত্র সন্দীপনের মতো পর পর সংলাপ লিখে যাওয়া হয়নি, নাট্য সাহিত্যের প্রচলিত নীতি মেনে সংলাপের আগে পরে নাট্যকারের নির্দেশের মতোই সঙ্গীত আলো প্রবেশ প্রস্থানের আরো নানান নির্দেশ লেখা আছে, তা ছাড়া এই উপন্যাসের নামকরণেও উত্তরাধিকারের একটা স্পষ্ট ইঙ্গিত আমরা পাই। বাংলা সাহিত্যের এ এক নব-নির্মাণ। কিছু কিছু উপন্যাস ধর্মী নাটকের সন্ধান পাওয়া গেলেও নাট্যোপন্যাস এক নতুন সূচনা। অভির উপন্যাসটিতে নাট্য সাহিত্যের বৈশিষ্টের সন্ধান যেমন মেলে তেমন মেলে উপন্যাসের চরিত্র-লক্ষণ। তার সাথে মিলে আছে কাল চেতনা।
আত্মধ্বংসী কোয়ারেন্টাইন ও রবীন্দ্রনাথ
লেখক: অভি চক্রবর্তী
প্রচ্ছদ: সৌজন্য চক্রবর্তী






Reviews
There are no reviews yet.